
মোঃ কামাল উদ্দিন জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
সারাদেশে নানা তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ পালিত হলেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে অত্যন্ত দায়সারাভাবে দিবসটি পালনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে নামমাত্র র্যালি, সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়ার মাধ্যমে পুরো আয়োজন শেষ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সাধারণ জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেকসহ হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের ১২-১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে আয়োজনে স্থান পায়নি স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সীমিতসংখ্যক অংশগ্রহণকারী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা ও সামান্য আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি টানা হয় পুরো আয়োজনের।
এ ঘটনায় দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য ও কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের এই কর্মসূচিতে সরকারি বরাদ্দের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের প্রধান লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করা। কিন্তু মাদারগঞ্জে সে লক্ষ্য অর্জনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে আয়োজনটি কেবল কাগজে-কলমে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাজ উদ্দিন জানান, “আমি বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছি। জামালপুর সদরের পিআইও মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। আজকের এই কর্মসূচির জন্য পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামালপুর সদরের পিআইও (মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. আব্দুল আলীমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, “আমি উক্ত অনুষ্ঠানের একজন অতিথি মাত্র ছিলাম। আয়োজনের মূল দায়িত্বে ছিল পিআইও অফিস।”




