
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি:
জমিতে গমের সোনালী ফলন অথচ সরকারি গুদাম শুন্য! পাবনার বেড়া উপজেলায় প্রতি মৌসুমেই গমের রেকর্ড ফলন হলেও খাদ্যগুদামে সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ছে। ২০২১ সালের মে মাসের পর বিগত ৫ বছর ধরে উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামে জমা পড়েনি এক ছটাক গমও। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ কিংবা মতবিনিময় সভা—কোনো পদক্ষেপেই কৃষক বা ব্যবসায়ীদের গুদামমুখী করা যাচ্ছে না।
উপজেলা খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৪০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযান শেষ হলেও গুদামে কোন গম জমা হয়নি। এ বছর সরকার প্রতি কেজি গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৩৬ টাকা (প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা)।
অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে বেড়া উপজেলায় ২,৪৫৯ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯,৮২৪ মেট্রিক টন থাকলেও বাস্তবে বাম্পার ফলন হয়ে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯,৮৭৩ মেট্রিক টনে।
কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সরকারি গুদামে গম না দেওয়ার প্রধান ৩টি কারণ সামনে এসেছে।
বাজারদর ও সরকারি মূল্যের তফাত: সরকারি মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে গমের দাম বেশি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ গম ১,৪৪০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকায় অনায়াসে বিক্রি হচ্ছে।আর্দ্রতা ও কড়া শর্ত: সরকারি গুদামে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ আর্দ্রতার (Moisture) কঠিন শর্ত রয়েছে। কিন্তু খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা কিছুটা বেশি আর্দ্রতার গমও সানন্দে কিনে নিচ্ছেন।
বাড়তি খরচ ও ‘অনৈতিক’ দাবি: গুদামে গম সরবরাহে পরিবহন খরচ, কুলি খরচ এবং আর্দ্রতা পরীক্ষার ঝামেলার পাশাপাশি এলএসডি কর্মকর্তার ‘অনৈতিক আবদার’ কৃষকদের উৎসাহিত করার বদলে হতাশ করছে।
“কৃষক যেখানে ঝামেলা ছাড়া ভালো দাম পাবেন, সেখানেই ফসল বিক্রি করবেন— এটাই স্বাভাবিক। উৎপাদিত গমের ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে খাদ্যগুদামেও গম সরবরাহ বাড়বে।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নূর মোহাম্মদ জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে মতবিনিময় সভা, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারি ক্রয়মূল্য কম থাকায় কৃষকরা গুদামে গম দিতে আগ্রহ দেখাননি।




