
মোঃ কামাল উদ্দিন জেলা জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জের ৬ নং আদারভিটা ইউনিয়নের সিনিয়র সহ সভাপতি পদ স্থগিত করেছে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। পাশাপাশি মাদারগঞ্জ উপজেলা কমিটির পদ স্থগিত করার জন্য জামালপুর জেলা বিএনপি কমিটিকে অনুরোধ করেন। রবিবার(৫ জুলাই) দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতন এর স্বাক্ষরিত নোটিশে আরো উল্লেখ্য করা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন নারীর সাথে জড়িয়ে আপনার সম্পর্কে একটি অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তি ও সুনাম দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আরো উল্লেখ্য করা হয়, একইসঙ্গে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ীভাবে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা আগামী ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবরে লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, নোটিশে যে নারীর কথা নোটিশে বলা হয়েছে সেই নারী নিজাম উদ্দিন এর বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন। মাদারগঞ্জ উপজেলার হেমরাবাড়ী এলাকার জামাল মণ্ডলের মেয়ে মুর্শেদা আক্তার তার প্রবাসী স্বামী সেলিম মিয়াকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তালাক দেন। পরে ১৪ মে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে বাশদাইর এলাকার খবির উদ্দিনের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিনকে বিয়ে করেন। এরপর তারা কিছুদিন দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মুর্শেদা আক্তার নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার প্রবাসী সাবেক স্বামী সেলিম মিয়া গত ২৬ মে জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৭৫১) করেন। পরবর্তীতে ১১ জুন মুর্শেদা আক্তার নিজাম উদ্দিনকে তালাক দিয়ে পুনরায় আগের স্বামী সেলিম মিয়ার সংসারে ফিরে যান। রহস্যজনক কারণে মুর্শেদা আক্তার বাদী হয়ে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ নালিশী মামলা (নং-৮৩/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় তিনি নিজাম উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং তার মা আমেনা বেগম ও ভাতিজা মো. আতিক মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ও ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২০/ ৪০৬/ ৪১৮/৪৬৮/৩৮৪/ ৩৮৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেন। গত ৩০ জুন আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে ১ জুলাই রাতে মুর্শেদা আক্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যক্তিগত ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ মুর্শেদা আক্তারকে দিয়ে এ মামলা করিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য উপজেলা বিএনপির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিজাম উদ্দিনকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন,যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি বৈধ স্বামী হয়ে থাকেন, তাহলে ধর্ষণ মামলা সহ অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট কী? অভিযোগগুলো তখন কেন উত্থাপন করা হয়নি?পুনরায় আগের স্বামীর সংসারে ফেরার পরই মামলা দায়েরের কারণ কী?অভিযুক্তের মা ও ভাতিজাকে আসামি করার ভিত্তি কী?মামলাটি কি ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? মামলায় অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার ভিত্তি কী? নাকি মিথ্যা মামলা দায়ের করে ব্ল্যাক মেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা?
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। তারা উপজেলা বিএনপি ও জেলার বিএনপির সঠিক তদন্তের দাবী জানান।
এদিকে নিজাম উদ্দিন বলেন, যে মেয়ের কথা বলা হয়েছে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।পরে আমরা বৈধভাবে বিয়ে করি এবং জামালপুর শহরে ভাড়া বাসায় একসঙ্গে সংসার করি। পরে আমাকে তালাক দিয়ে একটি কুচক্রী মহলের পরামর্শে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই মামলায় তিনটি পৃথক ঘটনাস্থলের উল্লেখ করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাই। পাশাপাশি আমি বিচার চাই। সেই ঘটনার সুত্র ধরে আমার পদ স্থগিত করেছে বলে শুনেছি। আমি নির্দোষ | আমি প্রমাণ উপস্থাপন করব উপজেলা ও জেলা বিএনপির কাছে।




