
মোঃ কামাল উদ্দিন জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
বৈশাখের শুরুতেই মাদারগঞ্জে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। প্রচণ্ড গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে,জুনের মাঝামাঝি সময়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের মতো জামালপুর-মাদারগঞ্জ অঞ্চলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫°C থেকে ৪০°C পর্যন্ত উঠছে। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকছে। রাতেও স্বস্তি মিলছে না। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ২৭°C এর মধ্যে থাকায় ভ্যাপসা গরমে রাতেও ঘুমাতে পারছেন না অনেকে।
আর্দ্রতা ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোয় অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালে তাপমাত্রা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে।
রিকশাচালক, কৃষক, নির্মাণ শ্রমিকরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। দুপুরে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। মাদারগঞ্জের শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি বাজারের রিকশাচালক শফিক মিয়া বলেন, “দুপুরে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া যায় না। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।”
বোরো ধান ও পাটের ক্ষেতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পাট গবেষণা উপকেন্দ্র, মাদারগঞ্জের কৃষিবিদরা অতিরিক্ত গরমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যান-এসি চালানো যাচ্ছে না। টিউবওয়েলে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুন মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে, যা সাময়িকভাবে গরম থেকে স্বস্তি দেবে। তবে রাজশাহী-চুয়াডাঙ্গার মতো মাদারগঞ্জেও তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। ২০২৫ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪১.২°C তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যারা রোদের ভিতর কাজ করবে তারা যেন মাঝে মাঝে ছায়া এসে বিশ্রাম নেয় এবং কি ছাতা ব্যবহার করেন,|হাসপাতাল গুলোতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্যালাইন ও ঔষধের মজুদ বানানো হয়েছে |




