
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
জমি সংক্রান্ত জের ধরে একটি পরিবারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নারীকে মারপিট ও বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ জামাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এঘটনায় রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৬ জুন) কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পুরাতন টাপুরচর গ্রামে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোরশেদা খাতুনের স্বামী হামিদুল ইসলাম দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রেখে প্রায় ৬ বছর আগে মারা যায়। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মোরশেদা তার স্বামীর বাড়িতে থাকেন। নিজের সম্মান রক্ষার্থে ও সন্তানদের ভরণপোষনের জন্য তিনি শাহাব উদ্দিন নামের অন্য এক ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রথম স্বামীর লোকজন হায়দার আলী, হাশেম আলী, সৈয়দ জামাল ও হাফিজুর রহমান। তারা বিভিন্ন ভাবে মোরশেদাকে মানষিক নির্যাতন ও অনৈতিক কাজের মিথ্যা অপবাদ দেন। এমনকি শের আলীর ছেলে হায়দার আলী ওই নারীকে বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাব দিতো। এ কথায় সে রাজি না হওয়ায় গত ৬ জুন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মোরশেদার বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখায়। এসময় মোরশেদা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষে বাকবিতন্ডতার এক পর্যায়ে হায়দার আলী সহ তার লোকজন নিয়ে ওই পরিবারের ওপর মারপিট করতে থাকে। এতে মোরশেদা (৩২) আহত হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তাকে উদ্ধার করেন এবং লোকজন সরাইয়াদেন। এছাড়াও তারা বসতবাড়ির গেট ও ঘরের বেড়া ভাংচুর করে। বর্তমানে ওই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এঘটনায় ভুক্তভোগী মোরশেদা খাতুন বাদী হয়ে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত সৈয়দ জামাল জানান, পরিবারে একটু ঝগড়া-ঝাটি হয়েছে মাত্র। মোরশেদা খাতুনকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার বিষয় সব মিথ্যা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আইজল হক বলেন, তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ চলে আসছিল। যেটা থানা পর্যন্ত গড়ায়। আমি উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংসা করার চেষ্টা করবো।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী জানান, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিয়েছে এবং তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



