
জামালপুরের মাদারগঞ্জে আদালতের রায় ও ডিক্রি অনুযায়ী ২৮ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার উপজেলার ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
বাদীপক্ষের দাবি, তেঘরিয়া মৌজার ওই ২৮ শতাংশ জমি নিয়ে ২০২১ সাল থেকে তাদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বিরোধ চলে আসছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন এবং ডিক্রি জারি করেন। রায়ের আলোকে ওই জমির ওপর থাকা ইউনিয়ন পরিষদের বাউন্ডারি ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি বুঝিয়ে দেয়ার আদালতের নির্দেশনা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
নির্ধারিত সময়ে আদালতের নাজির, পুলিশ সদস্য, বুলডোজার, স্কেভেটর ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হয়ে যায়।
বাদী আলহাজ মো: জহুরুল ইসলাম বাদশা তরফদারের ছেলে মো: পারভেজ তরফদার বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে আমরা ২৮ শতাংশ জমি উদ্ধারের জন্য মামলা চালিয়ে আসছি। প্রায় পাঁচ বছর পর আদালতের রায়ে ডিক্রি পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির ওপর থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকায় উচ্ছেদ করা হয়নি।’
তিনি দাবি করেন, উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য বুলডোজার, স্কেভেটর ও শ্রমিকসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। অভিযান না হওয়ায় তাদের প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। জমিতে বসবাসরত লোকজনকে প্রয়োজনে সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের নাজিরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাকে বলেছি, আজ আমি যেতে পারব না। পরে বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কে জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এটি এসিল্যান্ডের কাজ। বর্তমানে এসিল্যান্ড নেই। নিয়মিত এসিল্যান্ড এলে হয়তো কার্যক্রমটি করা সম্ভব হবে।’
তবে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হওয়া নিয়ে বাদীপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বলেন, তিনি সকাল সাড়ে ১০ টায় নাজিরকে উপস্থিত হতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক তৌফিকুল ইসলাম খালেক দাবি করেন, বাদীপক্ষ একতরফাভাবে মামলার রায় নিয়ে এসেছে। রায় ঘোষণার সময় বিবাদীপক্ষ আদালতে উপস্থিত ছিল না এবং মামলাটি কবে রায় হয়েছে, সে বিষয়েও ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদকে কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মামলার বিবাদী হিসেবে ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদ ছিল না। তৎকালীন চেয়ারম্যান বদরুল আলমের সময়ে মামলাটি চলমান ছিল।’
ইউপি প্রশাসক আরো দাবি করেন, মামলার রায়ে ২০৭২ নম্বর দাগের ২৮ শতাংশ জমি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। ওই দাগের জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে এবং গোরস্থান হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নামে মোট নয়টি দাগে জমি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আদালতের রায় ও ডিক্রির পরও উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।