
দিনভর বিদ্যুতের এমন চরম টালবাহানায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার হাজারো মানুষের জীবন। সকাল থেকে গভীর রাত—ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং আর বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় থমকে গেছে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক গতি। তীব্র তাপদাহ আর বিদ্যুৎহীনতায় ঘরে-বাইরে কোথাও যেন একবিন্দু স্বস্তি নেই।
উপজেলা জুড়ে বিদ্যুতের বিশাল ঘাটতিই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৮ থেকে ২১ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে বিশাল এলাকার চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিদ্যুতের এই ভৌতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরম আর আলো-বাতাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে তাদের নিয়মিত পড়াশোনা। পড়ার টেবিলে বই খোলা থাকলেও শরীর ভিজে গড়াচ্ছে ঘামে, মনোযোগ ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে অসহ্য তাপদাহের সাথে বিদ্যুৎ না থাকায় বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। হাসপাতালগুলোতে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
দিনের দুর্ভোগ গড়ায় রাতের অন্ধকারে। আর রাতের আঁধার নামলেই যোগ হয় মশার উপদ্রব। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ঘোরে না, ফলে মশার কামড় আর অসহ্য গরমে কোনোভাবেই ঘুমাতে পারছে না মানুষ। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়ে ভোরবেলা ক্লান্ত শরীর নিয়ে কাজে বের হতে হচ্ছে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষকে।
একদিকে বিদ্যুতের অভাব, অন্যদিকে গরম ও মশার কামড়—সব মিলিয়ে মাদারগঞ্জের মানুষের জীবন যেন আজ এক চরম দুর্ভোগের নাম। দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এবং শান্তিতে একচিলতে ঘুমানোর আকুতি জানাচ্ছে ভুক্তভোগী মাদারগঞ্জবাসী।