
পাবনার বেড়ায় যমুনা নদীতে নৌকা ভ্রমণে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে গণউপদ্রব সৃষ্টি ও কিশোরদের নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করার দায়ে মাঝিসহ তিন যুবককে নয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—নৌকার মাঝি চয়ন, সাগরেদ মনিরুল এবং সাউন্ড বক্সের মালিক অঞ্জু। নৌকায় থাকা বাকি যাত্রীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি শাস্তি প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদল যুবক বেড়া উপজেলার যমুনা নদীতে নৌকায় উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। এ সময় তারা ১০-১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের শরীরে রঙ মেখে নাচানাচি ও সার্বিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার মতো উশৃঙ্খল আচরণে মেতে ওঠে। বিষয়টি নজরে এলে বেড়া উপজেলাধীন নগরবাড়ি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস দল নদী থেকে উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো অবস্থায় উশৃঙ্খল যুবকদের নৌকাসহ আটক করে বেড়া পোর্টে নিয়ে আসে।
পরবর্তীকালে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতে জনউপদ্রব ও উশৃঙ্খলতার প্রমাণ মেলায় অভিযুক্ত চয়ন, মনিরুল ও অঞ্জুকে নয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীতে নৌভ্রমণের নামে যেকোনো ধরনের অনৈতিক বা উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড ও শব্দদূষণ রোধে তাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বেড়া মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিয়ে বাড়ি বা কোন অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেখানেও কঠোর হস্তে অভিযান পরিচালনা করা হবে।