
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর এক পাশ বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে আকরামুল কবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এবিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।
অভিযোগ রয়েছে, আকরামুল কবির উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবিরের ছোট ভাই। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেতুর মুখ ভরাট করায় বৃষ্টির ও বন্যার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝাড়কাটা বাজারের উত্তর পাশে ২০২৫ সালে এলজিইডি প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৪ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুটির নিচ দিয়ে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে বৃষ্টি ও বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে আশপাশের ফসলি জমির পানি নিষ্কাশন হতো। তবে কয়েক মাস ধরে সেতুর পূর্ব পাশে মাটি ভরাট করে জমি উঁচু করা হচ্ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই এর মুখ ভরাট করে দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সেতুর নিচ দিয়ে পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্ত আকরামুল কবির বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গায় মাটি ভরাট করেছি। সেখানে একটি খামার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবির বলেন, সেতুটির নিচ দিয়ে সাধারণ সময়ে তেমন পানি প্রবাহিত হয় না। এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। আমার ভাই তার নিজস্ব জমিতে খামার করার জন্য মাটি ভরাট করেছে। তবে বন্যার সময় যাতে পানি চলাচল করতে পারে, সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি স্থাপনা বা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে কেউ বাধা সৃষ্টি করে থাকলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।