
দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিনে অধিকাংশ খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আর শ্রমিক (ওয়েজ) খাতে বরাদ্দের প্রায় কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় আদারভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম পলিশা থেকে দুধিয়াগাছা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি থেকে তেঘরিয়া ও হিদাগাড়ী গুচ্ছগ্রাম থেকে হিদাগাড়ী আক্তার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ দুই প্রকল্পের মধ্যে পলিশা খাল খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা এবং তেঘরিয়া খাল খননের জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার ৮৩০ টাকা। প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। উদ্বোধনের সময় প্রতীকীভাবে ঝুড়িতে মাটি বহন করে শ্রমিক দিয়ে কাজের সূচনা করা হয়।
কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দেখা দেয় শ্রমিক সংকট। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাজ উদ্দিন জানান, কর্মসৃজন কর্মসূচিতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০০ টাকা। একই সময়ে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকরা অন্যত্র এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়ায় নির্ধারিত মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যায়নি। ফলে শ্রমিকের তালিকা প্রস্তুত ও মাস্টার রোল তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন-ওয়েজ খাতের অর্থ দিয়ে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালনা করা হয়। এতে পলিশা খালের প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং তেঘরিয়া খালের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পশ্চিম পলিশা হতে দুধিয়াগাছা খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিক খাতে বরাদ্দ ছিল ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৯ টাকা এবং অন্যটিতে ৫৭ লাখ ৫৯ হাজার ২১৫ টাকা। শ্রমিক নিয়োগ সম্ভব না হওয়ায় এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ জুন ও ৬ জুলাই ফেরতের চালান জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মসৃজন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়া। সেখানে শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে যন্ত্র ব্যবহার করায় প্রকল্পের সামাজিক লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তাদের মতে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করা হলে শ্রমিক সংকট তৈরি হতো না এবং দরিদ্র মানুষও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে মজুরি নির্ধারণ এবং পরিকল্পনায় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া না হলে কর্মসৃজন কর্মসূচির উদ্দেশ্য বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।