
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের কবলে পড়া গরুবাহী ট্রাক উদ্ধারের পাশাপাশি ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট হওয়া ৫টি মৃত ও ২টি জীবিত গরুও উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও শেরপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রায়পুর গ্রামের আবদুস সালাম সরকার (৩৫), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের বুলু মিয়া (২৮) এবং একই এলাকার মো. মহিদুল (৩৪)। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তাঁদের শেরপুর থানায় আনা হয়।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার রসুলগঞ্জ হাট থেকে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি গরু নিয়ে একটি ট্রাক কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রাকটি শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি ডাকাত দল অপর একটি ট্রাক দিয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরে তারা ট্রাকের চালক, সহকারী, মালিক ও রাখালকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে ট্রাকটি ছিনিয়ে নেয়।
ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের একটি ট্রাকে তুলে প্রথমে যমুনা সেতুর দিকে নিয়ে যায়। পরে পথ পরিবর্তন করে শেরপুর-ধুনট সড়ক হয়ে ধুনট উপজেলার দিকে যায়। একপর্যায়ে গরুর মালিককে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলেও চালক, সহকারী ও রাখালকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খানপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ব্রিজের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গরুর ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ডাকাতির মামলা করেন। এরপরই শেরপুর থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত সিং বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব গোলচত্বরে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, ৫টি মৃত গরু এবং ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। এছাড়া অন্য একটি স্থান থেকে আরও ২টি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন,ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ট্রাক ও গরু উদ্ধারে পুলিশ সফল হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মৃত গরুগুলো স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডাকাত চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।