
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ১৩ নং সাহেবের আগলা ইউনিয়নে নদীভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ভাঙ্গন কবলিত স্কুল শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আগলা ইউনিয়নের চৌদ্দ কুড়ি গ্রাম সংলগ্ন নদীর তীরে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে প্রায় ৫ সহস্রাধিক জনসাধারণ অংশ গ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৩ নং সাহেবের আগলা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন, রফিকুল ইসলাম প্রভাষক রৌমারী কেরামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, মাহবুব হোসেন ইউপি সদস্য হযরত হোসেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, রাবেয়া খাতুন, হাওয়া বেগম, ভানু খাতুন নাজমা খাতুন, রাহেলা বেওয়া, সাইদুল ইসলাম, , লোকমান প্রমূখ।
বাবেয়া খাতুন বলেন, আমার বাড়িভিটা নদীতে ভেঙ্গে গেছে। আমি এখন খোলা আকাশের নিচে কষ্টে বসবাস করছি। আর যাতে অন্য কোন পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য সরকারের কাছে দাবী করি। আমরা রিলিফ চাইনা নদী ভাঙ্গন বন্ধ চাই।ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন বলেন , নদী ভাঙ্গন একটা বড় সমস্যা। ভাঙ্গনরোধে আমরা অনেকবার স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এদিকে যে ভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যেই এই এলাকাটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। তাই বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের সাথে কথা বলেছি ও সরকারের কাছে নদীভাঙ্গনরোধে দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
রৌমারী কেরামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দ্রুত নদী ভাঙ্গনরোধ না করলে প্রাইমারী স্কুল, হাই স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ পাকা রাস্তা ও বাজার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এক সময় রৌমারীর মানচিত্র হারিয়ে যাবে।
গত কয়েকদিন থেকে বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র স্রোতে ব্রহ্মপুত্র নদের সোনাপুর চর সোনাপুর, গুচ্ছগ্রাম, চর গেন্দার আলগা, ঘুঘুমারী, সুখেরবাতি, দক্সিণ নামজের চর, খেওয়ারচর ও হবিগঞ্জ ও খেদাইমারী এলাকায় ভাঙ্গনে ভয়াবহ রুপ ধারন করছে। এতে দিনেরাতে তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েকদিনে ৫০ টি বশতবাড়ি ও কয়েকশ একর কৃষি জমি নদের গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ২০০টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বর্তমানে কোন স্থান না পেয়ে নদের কিনারের পাশেই পাটের শোলা ও টিনশেড দিয়ে ছাপড়া ঘর উঠিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নদের ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাড়ায়নি সরকারি বা বেসরকারি জনপ্রতিনিধিগণ।