
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চৌরাস্তা এলাকার একটি জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ডাকাতিয়া মৌজার বাসিন্দা মোঃ ওবায়দুল্লাহ (৫৬), পিতা-মৃত রাজা মাসুদ মিয়া, একই এলাকার মোঃ সোলাইমান (৫৪) গং, পিতা-মৃত জাফর আলীর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬৯৯/২০২৪ নং মামলা দায়ের করেন। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় নোটিশ জারি করেন। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২৪ আগস্ট ১৯৮৯ তারিখে ৭৭২২ নং বেল এওয়াজ হেবা দলিলের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহ বিভিন্ন দাগে মোট ১০৮ শতাংশ ভূমির মালিকানা লাভ করেন। তবে দলিলে কোন দাগে কতটুকু জমি রয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।
পরবর্তীতে ২৮ মে ১৯৯৫ তারিখে ৫১৬৫ নং সাব-কাবলা দলিলের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহ এসএ দাগ নং ৭৬৩৯ এবং হাল দাগ নং ১৭৩৫৬ উল্লেখ করে ৩৪ শতাংশ জমির কাতে ১৭ শতাংশ জমি সোলাইমান গংদের নিকট বিক্রি করেন। তবে ওই দাগে তার নিজস্ব মালিকানার পরিমাণ কত ছিল, তা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সাল থেকে অদ্যাবধি সোলাইমান গং উক্ত জমি ভোগদখলে রয়েছেন। এ জমিতে দোকানঘর নির্মাণ, গাছ বিক্রি এবং ভাড়া আদায়ের বিষয়েও একাধিক ব্যক্তি সোলাইমানের দখলের কথা জানিয়েছেন। মামলার ২ ও ৩ নম্বর সাক্ষীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, জমির কাগজপত্র সম্পর্কে তাদের ধারণা না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সোলাইমানকে জমির মালিক হিসেবে দেখে আসছেন। দোকানঘর নির্মাণ ও ভাড়া আদায়ও তিনি করে থাকেন। মামলার চৌহদ্দিতে উত্তর পাশে আঃ আজিজের নাম উল্লেখ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, “মামলায় আমাকে উত্তরে দেখানো হয়েছে, যা সঠিক নয়। নালিশী জমির উত্তরে প্রথমে বাদল, এরপর আমির আলী এবং তার উত্তরে আমার জমি অবস্থিত। জমির গাছপালাও সোলাইমান বিক্রি করেছেন।”
স্থানীয় দোকান ভাড়াটিয়া রাজিব আহমেদ বলেন, “আমি সোলাইমান ভাইয়ের কাছ থেকে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে দোকান ভাড়া নিয়েছি এবং নিয়মিত ভাড়াও তাকেই প্রদান করি।”
এ বিষয়ে মামলার বাদী ওবায়দুল্লাহ বলেন, “দোকানঘর সোলাইমান নির্মাণ করেছে। আমি বারবার নিষেধ করলেও সে কথা শোনেনি। বর্তমানে আমার নামে ৫ শতাংশ জমি বিএস (বিআরএস) রেকর্ড হয়েছে।” অন্যদিকে বিবাদী সোলাইমান দাবি করেন, “আমি ১৯৯৫ সালে সাব-কাবলা দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছি এবং তখন থেকে ভোগদখলে আছি। নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছি। এখন মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাদীর দলিলে নালিশী দাগে তার জমির পরিমাণ কত, সেটি আগে প্রমাণ করা উচিত। আমার ক্রয়কৃত জমির পাশাপাশি এখানে পৈতৃক সম্পত্তিও রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয়দের ধারণা, বিআরএস রেকর্ডকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিনের এই জমি বিরোধ নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।