
টাঙ্গাইল পৌরসভার দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত রতন মিয়া (৭০) দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মুদি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নিজ দোকানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তি এবং জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রতন মিয়ার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরোধ চলছিল। নিহতের স্বজন বাবলু ও স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বাবুসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে ওই বিরোধের জেরে রতন মিয়াকে মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে দোকানে অবস্থানকালে রতন মিয়ার সঙ্গে তার পুত্রবধূ রোজিনা আক্তার ও নাতনী নদী আক্তারের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে রতন মিয়া আত্মরক্ষার্থে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় দোকানের মালামালও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার একপর্যায়ে রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় নারী জানান, বয়সের ভার থাকা সত্ত্বেও রতন মিয়া নিজেই উপার্জন করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, এর আগেও তাকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুহুল আমীন বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও বিস্তারিত অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।