
মোঃ কামাল উদ্দিন জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ’ দূর্গন্ধে অতিষ্ট পথচারীরা’ অকেজো প্রায় কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাদারগঞ্জ টু জামালপুর মহাসড়কের বালিজুড়ী বাজার ফার্নিচার মোড়ের পাশেই দীর্ঘদিন থেকে ময়লার স্তূপ। প্রতিদিন বাজারের ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে মহাসড়কের পাশেই ফেলছে পৌরসভার পরিছন্নতাকর্মীরা। অপরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৌরবাসী,পশু-পাখি,গাছপালা ইত্যাদি।
পৌরসভার ময়লা,আবর্জনা, বজ্র গুলো নিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে জৈব সার উৎপাদন হবে। মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণ করা হয়েছে এ ডাম্পিং স্টেশন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে গত ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসে মাদারগঞ্জ পৌরসভাকে ডাম্পিং স্টেশন টি হস্তান্তর করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান লাবনী কনস্ট্রাকশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামালপুর-৩ আসনের ৭ বারের সংসদ মির্জা আজম এর ছোট ভাই জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির ওই সময়ে মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন।
ডাম্পিং স্টেশনের কাজ পেয়ে ছিলেন মেয়রের ছোট ভাই মেসার্স লাবনী কনস্ট্রাকশন এর স্বত্বাধিকারী মির্জা গোলাম মওলা সোহেল।
ডাম্পিং স্টেশন টি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদারগঞ্জ পৌরসভার শুভগাছা এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় যার নির্মাণ ব্যায় ছিল ৮৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা মাত্র। শুভগাছা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর, রবিউল জানান শেখ হাসিনা যাওয়ার আগেই এই প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়। দুই বছর হলেও এইখানে কোন ময়লা আবর্জনা নিয়ে আসেনি এবং সার উৎপাদন ও হয়নি। এইখানে আগে বাহিরের পোলাপান আসতো আড্ডা মারতো গেটে তালা লাগানোর পর থেকে নিরাপদ আছে ডাম্পিং স্টেশন। বর্তমানে এর ভিতরে ভুট্টা শুকাইতেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদুজ্জামান মনি তালুকদার বলেন আগে এই ডাম্পিং স্টেশনকে ঘিরে ময়লা আবর্জনা ছিল। বর্তমানে এই এলাকার যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পর থেকে অনেক মানুষ যাতায়াত করে। সরকার বাহাদুরের কাছে অনুরোধ করছি ডাম্পিং স্টেশন টি দ্রুত চালু করার জন্য।
ডাম্পিং স্টেশনের ভিতরে রাখা ভুট্টার মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান ৫ আগস্টে ভাংচুর করতে আসছিল আমি বাঁধা দিয়েছিলাম তারপর ও ২/৩ টি পাইপে আগুন লাগিয়েছিল বিক্ষিপ্ত জনতা। গত এক মাস যাবৎ আমি ডাম্পিং স্টেশনের প্রধান গেটে তালা লাগানোর পর বর্তমানে সুরক্ষিত আছে। এরপূর্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলাপান আসতো আড্ডা মারতো নেশা করতো।
এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান তিন পৌরসভা প্রকল্পের আওতায় মাদারগঞ্জে একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৮০ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা ব্যায়ে । অফিসের নথিপত্র থেকে আমি যতটুকু জানতে পেরেছি ডাম্পিং স্টেশনটি ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্পটি করা হয়েছে মুলত পৌরসভার ময়লা আবর্জনা গুলো ডাম্পিং স্টেশন নিয়ে পক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করবে।
এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সুমন চৌধুরী জানান মাদারগঞ্জ পৌরসভার শুভগাছা এলাকায় জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক একটি ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণের পর হস্তান্তর করা হয়েছে। যদি ও এর হস্তান্তরের কোন ডকুমেন্টস আমরা পায়নি। ডাম্পিং স্টেশনটিতে ট্যাকনিক্যাল সার্পোট দরকার ছিল এবং ওখানে জনবল দরকার। কিভাবে কাজ করে তা কেউ জানে না এবং দীর্ঘদিন থেকে অকেজো হয়ে আছে। যেহেতু আমরা জনস্বাস্থ্য থেকে কোন ডকুমেন্টস পায়নি তাদের অবগত করেছি ডকুমেন্টস গুলো দিতে। উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষ কে জানাবো পৌরসভার মাধ্যমে কাছেই একটি ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য।



