
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়ন-এর বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিখোঁজের পর আতিকা আক্তার (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও গণপিটুনিতে দুইজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে দুদল মিয়া ও আরিফা আক্তার দম্পতির মেয়ে, প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আতিকা আক্তার স্থানীয় একটি বিয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে গিয়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। কিছু সময় পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে শিশুটিকে খোঁজা হয়।
এ সময় আতিকার চাচাতো ভাই আলী (৬) জানায়, সে আতিকাকে প্রতিবেশী কিশোর নাঈম (১৫)-এর সঙ্গে যেতে দেখেছে। পরে সন্দেহভাজন নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতের কথা জানায়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই ক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন নাঈমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গণধোলাই দেয়। এতে নাঈমের পিতা অটোচালক পান্নু মিয়া (৪৫) এবং তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন। এছাড়া পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২২) গুরুতর আহত হন। আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, হৃদয়বিদারক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বনপারিল এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।