
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় শিরিনা আক্তার (১৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও দায়িত্বরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে অনশন করছেন তারা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী ফারুক হোসেনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার গত ২৫ মার্চ কালিহাতী উপজেলা সদরের বেসরকারি এম রহমান হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিনই ডা.মিরুফা তানজীন সুমির তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে ২৮ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, বাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই শিরিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে ৮ এপ্রিল পুনরায় তাকে একই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ এপ্রিল আবারও তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয়বার অপারেশনের পর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই বা নেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রথম অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর পেটের ভেতরে গজ রেখে দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে মরদেহ রেখে অনশন শুরু করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত ক্লিনিকে এর আগেও একাধিক রোগী চিকিৎসা অবহেলার শিকার হয়েছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম জানান, ঘটনার পর সকালে ক্লিনিকের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।