
রৌমারী উপজেলার বড়াই কান্দি বাজার এলাকায় গাভিন গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম হিমু নামের এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় দুইদিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযুক্ত হিমু শৌলমারী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যেক্ষ দোষীরা জানান, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইকান্দি বাজার ডিসি রাস্তা সংলগ্ন আওয়ামীলীগ অফিসের ভাড়া দোকান থেকে এই গরুর মাংস বিক্রি করে আসছেন হিমু। হিমু প্রতিমাসেই রোগাক্রান্ত গরুকিনে এনে জবাই করে মাংস বিক্রি করতে থাকেন। এরই মধ্যে গাভির পেট থেকে একটি বাছুর বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং মাংস ঘর অবরোদ্ধ করে রাখেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে জানালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে রৌমারীর প্রাণী সম্পদ কর্তৃপক্ষ থেকে গরু জবাই করার জন্য পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব থাকলেও তা না করে স্থানীয় আইয়ুব আলী নামের এক গ্রাম্য পশু চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো হয় এবং গরু জবাই করার অনুমতি প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এরকম ঘটনা ঘটে। এর আগেও বিভিন্ন মাংস ঘরে রোগাক্রান্ত, গাভিন ও মরা গরু পর্যন্ত জবাই করে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে একাধীকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হলেও গুরত্ব দেয়নি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক আইয়ুব আলী জানান, প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে গরু জবাই করার আগে পরীক্ষা করে প্রতায়নপত্র দেই। ঘটনার দিন আমাকে না জানিয়ে গাভিন গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করতে থাকে হিমু। আমি শোনা মাত্রই মাংস ঘরে যাই। কিন্ত আমি সেখনে পৌছার আগেই ওই মাংসগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় হিমু। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম হিমু বলেন, একটি চক্র আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে মাংসগুলো সড়িয়েছি।
প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান পাইকর এর ব্যবহৃত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী জানান, এবিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। শুনেছি গাভীর পেট থেকে বাছুর বের হয়েছে। পরে মাংসগুলো সড়িয়ে ফেলেছে প্রত্যক্ষ দোষীরা।