
আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টু,টাঙ্গাইলঃ
আগামি পহেলা বৈশাখ সারাদেশে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। টাঙ্গাইলে এ পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে জেলায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পরেছে। জেলার সর্বত্র আনন্দের ঢেউ বইছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন(১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি এসব কথা বলেন।
এ সময় কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি সার্বজনীন পার্বনে টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় এটি জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষ এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৈশাখী মেলা, কৃষি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে- যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশ নেবেন।
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত। এসময় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সার্বিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা মতামত প্রদান করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে এসএসএফ, কৃষি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের কঠোর নির্দেশনা দেন।
সভায় জানানো হয়, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ১৫ জন কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন। এছাড়া শহরের পৌর উদ্যানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও আউটার স্টেডিয়ামে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
প্রকাশ, ওইদিন টাঙ্গাইল থেকে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের পাশাপাশি দেশের আরও ৯টি স্থানে একই সময়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯টি স্থানে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষকই এ সুবিধার আওতায় আসবেন।



