
পাবনার বেড়ায় ভুয়া জন্ম নিবন্ধন, জেএসসি-এসএসসি পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট তৈরির অপরাধে দুটি কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অদ্য ২৯ মার্চ, রোববার দুপুর ৩ টার দিকে বেড়া পৌরসভা মঞ্জুর কাদের মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জালিয়াত চক্রের দুই সদস্যকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— 'আকাশ কম্পিউটার'-এর স্বত্বাধিকারী আকাশ (১০০০০/-) ও 'রাকিব কম্পিউটার'-এর স্বত্বাধিকারী রাকিব (৫০০০/-)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানা যায় যে, দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্রটি সরকারি দপ্তরের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া জন্ম সনদ, টিকার কার্ড ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট তৈরি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছদ্মবেশে দু’জন ব্যক্তিকে ক্রেতা সাজিয়ে সেখানে পাঠানো হয়। এসময় রাকিব কম্পিউটার জানায়, তারা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জাল সনদ তৈরি করতে পারে এবং এসএসসির সনদের জন্য পাশের দোকানে যেতে বলে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান ফোর্স নিয়ে দোকান দুটিতে হানা দেন।
অভিযানকালে কম্পিউটার থেকে জাল সনদ তৈরির সফটওয়্যার, ওয়ার্ড ফাইল ও বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত দুটি জন্মসনদ ও দুটি সার্টিফিকেট অনলাইনে যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করলে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৭০ ধারা অনুযায়ী আকাশকে ১০ হাজার টাকা ও রাকিবকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তবে পারিবারিক অসচ্ছলতা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। আকাশের বাবা একজন প্রান্তিক কৃষক এবং রাকিবের বাবা অসুস্থ অটোচালক হওয়ায় তারা ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, "জালিয়াতি চক্র নির্মূল ও জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত আছে এবং থাকবে। আইন অমান্যকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না"।