
পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানাধীন কাজিরহাট ফেরিঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ, স্পীডবোটের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরের মায়িশা খানের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সহায়ক ফোর্স হিসেবে উপস্থিত ছিলো আমিনপুর থানা পুলিশ, কাজিরহাট নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর।
অদ্য ২৮ মার্চ, শনিবার ঈদ ফেরত যাত্রীদের বিরম্বনা দূর করার লক্ষ্যে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।
তথ্য সুত্রে জানা যায় যে, যাত্রীদের হয়রানির পিছনে অসাধু সিণ্ডিকেট অনেকাংশে দায়ী। তারা ভাড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্পীডবোটের তেল সংকটের কথা বলে ঘাট সরকারিভাবে বন্ধ রেখে সংকট সৃষ্টি করে অসাধু উপায়ে কিছু সংখ্যক স্পীডবোট নায্যমূল্যের অত্যাধিক ভাড়া দিয়ে চলাচল করানো হয়। অন্য দিকে ঈদ ফেরত যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ পারাপার হতে না পেরে অধৈর্য হয়ে একটি স্পীডবোট আসলেই লাফিয়ে উঠে পড়ছে। দেখা যায় যে, নির্ধারিত ১২ জনের জায়গায় ১৮ জন করে উঠাচ্ছে, তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা আরো উঠতে চাচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এমন একটি স্পীডবোট ধরে তিনি যাত্রীদের ভাড়া কত জিজ্ঞাস করলে তারা বলছে জানে না। তাদের ভাষ্য, "যত টাকা নিক তাদের আপত্তি নেই কিন্তু এভাবেই যেতে হবে"। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান যে, "উক্ত বোটে ১৮ জনের মধ্যে ৩টা বাচ্চাও ছিলো, বড়রাতো লাইফ জ্যাকেট পরেইনি এমনকি বাচ্চাদেরও লাইফ জ্যাকেট পড়ায়নি। অতিরিক্ত ৬ জনকে নেমে যেতে বললে, কেউ নামতে চায় না। পড়ে স্পীডবোটের ড্রাইভারকে জরিমানা করা হয়। তারপর যাত্রীদের জেলের ভয় দেখিয়ে নামতে এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাধ্য করে তিনি লাইফ জ্যাকেট পরতে বাধ্য করেন। যাত্রীদের বেপরোয়া আচরণে বিরক্ত হয়ে নুরেন মায়িশা খান আরো বলেন, নিজের লাইফের সিকিউরিটি কি নিজের নয়, শুধুই কি প্রশাসনের?"
অপর দিকে দেখা যায় যে, পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকার পরেও যে লঞ্চ আগে যাবে মানুষজন সেটাতেই বেপরোয়া ভাবে উঠতে শুরু করে, এমনকি জায়গা না পেয়ে ছাদে হলেও উঠতে শুরু করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ১২টা লঞ্চে যাত্রী গুনে তুলে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন যাতে লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী না নিতে পারে। কিন্তু লঞ্চ ঘাট থেকে মোবাইল কোর্ট টিম ট্রলার ঘাটে যেতেই আবার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই শুরু করে এবং সিগন্যাল দেয়ার পরেও লঞ্চ ছেঁড়ে দেয়। তখন লঞ্চ থামিয়ে ঘাটে ভিড়িয়ে এনে আইন অমান্য করায় জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে যাত্রীরা এতোটাই বেপরোয়া আচরণ করে যে, বারবার বাধা দেয়া সত্ত্বেও তারা সেই অতিরিক্ত বোঝাই লঞ্চেই আবার উঠার চেষ্টা করতে লাগলে জেল এর ভয় দেখিয়ে তাদের আটকানো হয়, যা খুবই দুঃখজনক। এসময় ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর ডাব, ঝালমুড়ি, পপকর্ণ বিক্রি সহ অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ দোকানও সরিয়ে দেয়া হয়।
ট্রলার ঘাটে গিয়ে মোবাইল কোর্ট টিম ট্রলারের অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। অভিযান চালাতে গিয়ে আরো জানা যায় যে, নৌপুলিশের স্পীডবোট নষ্ট। অথচ সেটা আগে জানানো হয়নি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা কালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারায় সেবাগ্রহীতার জীবন বিপন্ন করায় একটা স্পিডবোট ও একটা লঞ্চ কে জরিমানা করা হয়।
এর আগে সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সিএন্ডবিতে সিএনজির ভাড়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। সেটা বেড়া উপজেলার এরিয়া না হওয়ায় মোবাইল কোর্টে শাস্তি সম্ভব না হলেও প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ৩০টির মত সিএনজি সঠিক ভাড়ায় যাত্রীবহন নিশ্চিত করেন বলে জানান নুরেন মায়িশা খান।
তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, "একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তর্যামী নন, তিনি একই সাথে সব জায়গায় থাকতে পারেন না। নিজ নিজ এলাকায় আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন, নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে দয়া করে আরো সচেতন হন। আর সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, প্রশাসন সর্বাবস্থায় আপনাদের পাশে থাকবে।