
মোঃ আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার.
মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শিক দৃঢ়তার এক পরিচিত নাম খন্দকার ফরহানা ইয়াসমীন আতিকা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পরীক্ষিত এই নেত্রীকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দেখতে চায় জেলার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সংগঠক হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। পরবর্তীতে ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সদস্য, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক এবং মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে ধাপে ধাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এক নির্ভীক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে।
জেলা পর্যায়েও রয়েছে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর কেন্দ্রীয় কমিটির মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন আতিকা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টানা ১৭ বছর মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন তাঁর সহযোদ্ধারা। তাঁদের ভাষ্য, “সংগ্রামই তাঁর পরিচয়, আদর্শই তাঁর শক্তি”—প্রতিকূলতা তাঁকে দমাতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা আতিকার স্বামী মাহবুব হোসেন মহব্বত মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। তাঁর বড় ভাই শাহাদাত হোসেন খন্দকারও ছিলেন ঘিওর কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে একটি সুপরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকেও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী না হওয়াকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও সততার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নিরলস সাংগঠনিক পরিশ্রম এবং আদর্শের প্রতি অবিচল অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য করা হলে তা হবে ন্যায্য মূল্যায়ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলা ও দলীয় আনুগত্যের ধারাবাহিকতা তাঁকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁর এই ত্যাগ ও অধ্যবসায়ের কতটা প্রতিফলন ঘটে।
মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা- সংগ্রামের স্বীকৃতি মিলুক মর্যাদার আসনে।




