
মোঃ কামাল উদ্দিন জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার একাংশে যমুনায় জেগে ওঠা চরে পিয়াজ ও বাদাম চাষে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।
যমুনার বিস্তীর্ণ চর এলাকায় এখন দেখা মিলছে পিয়াজ ও বাদামের চাষ আবাদ। কৃষকরা বলছেন, আগে চরাঞ্চলে পিয়াজের আবাদ কম হতো। কিন্তু এখন বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। তবে এবারে পিয়াজ চাষে খরচ হয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশী।
জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীর চর ছেয়ে গেছে পিয়াজ গাছে ও বাদাম গাছে সবুজের সমারোহ। পাকরুল-হিদাগাড়ী এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক কৃষক পিয়াজ ও বাদাম চাষ করে আর্থিকভাবে সাফল্যের আশা করছেন। যমুনার পানি এবারে আগে নেমে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে পিয়াজ রোপণ করা হয়েছে। বাজারে পিয়াজের সংকটের কারণে বেশি দামে পিয়াজ বিক্রি হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে পিয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এবারে পিয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন যমুনার চরের কৃষকরা। ভারতীয় পিয়াজের চেয়ে দেশি পিয়াজের গুণগতমান ভালো। তাই দাম বেশি পাওয়ার প্রত্যাশা চাষিদের। ন্যায্য বাজার মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরে পিয়াজ চাষ ও বাদাম চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়া শুরু করে। তখন চরে কৃষকেরা পিয়াজ চাষের উপযোগী করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়েন। পৌষ মাস থেকে কৃষকরা চারা রোপণ শুরু করেন। আর চৈত্র মাস থেকে পিয়াজ তোলা শুরু করেন। চরে পিয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ মণ পিয়াজ হয়। খরচবাদে প্রতিবিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভের হিসাব গুনছেন কৃষকরা। দেড় থেকে দুই মাস পরেই পিয়াজ ঘরে তুলবেন চাষিরা। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় পিয়াজের পরিচর্যা নিয়ে কর্মব্যস্ত তারা।
স্থানীয়কৃষক আলতাফুর রহমান,আকবর আলী বলেন পেঁয়াজ,বাদাম,মটরশুঁটি,মুসর ডালসহ বেশ কয়েকটি ফসল এই যমুনার চরে চাষাবাদ হয়। আশা করছি ভালো ফসল হবে। কৃষক মনির ফকির বলেন আমি এই চরে কয়েক বিঘা জমিতে চাষাবাদ করি। অফিস থেকে পেঁয়াজ ও মটরশুঁটি বীজ কিছু পেয়েছি। আশা করছি ভালো ফলন হবে নায্যমুল্য পেলে লাভবান হতে পারবো।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান একসময় চরের জমি পড়ে থাকলেও এখন সেখানে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। আমাদের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যে পেঁয়াজ ও বাদামের চাষ হয়েছে। মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১৩০ হেক্টর পেঁয়াজ,১০ হেক্টর বাদাম লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে । এখন পর্যন্ত ভালো হয়েছে তবে আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে আশা করা যায় পেঁয়াজ ও বাদামের বাম্পার ফলন হবে। এক্ষেত্রে যদি নায্যমূল্য পায় তাহলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে এবং যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। পরবর্তীতে কৃষকরা পেঁয়াজ ও বাদাম চাষে আগ্রহ বাড়াবে




