
আবুজর গিফারী, বেড়া পাবনা প্রতিনিধি:
আত্ম সংযমের মাস পবিত্র রমজান। মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আশায় যে মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় ব্যবসায়িক পন্যের দাম সকলের জন্য সাধ্যমত কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এই রমজান মাসকে সামনে রেখে পাবনার বিভিন্ন হাটবাজারে অন্যান্য পণ্যের সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে চলছে মুরগির দাম। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে শুরু করে ১১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানের মধ্যে হঠাৎ এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
বেড়া পৌরবাজার, সি এন্ড বি বাজার, কাশিনাথপুর বাজার, সাঁথিয়া বোয়ালমারী বাজার, ফরিদপুর বাজারসহ, নাকালিয়া বাজার সহ বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগির বাজারের চরম অস্থিরতা। এক সাপ্তাহ আগেও যে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায়, বর্তমানে কেজিতে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে প্যারেল মুরগির ক্ষেত্রে। আগে যেখানে প্রতি কেজি ২৯০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ২৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ২৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা এই দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রোজাকে কেন্দ্র করে অসৎ উপায়ে মুনাফা অর্জনের জন্য সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম এই সংকট তৈরি করা হয়েছে। এক ক্রেতা বলেন, “গরুর মাংসের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে হওয়ায় ব্রয়লার মুরগি ছিল সাধারণ মানুষের আমিষের শেষ ভরসা, এখন সেটাও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাদের দাবি।”
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে দাম বাড়ায় এবং পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় তাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়াকেও তারা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তবে সাধারণ মানুষ সংকটকে ব্যবসায়ীদের অসৎ কারসাজি হিসেবেই দেখছেন।
রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



