
মানিকগঞ্জে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ একটি ঘরের ভেতর থেকে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত নারীর নাম মোছা. নুরজাহান (৫৫)। তিনি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার পৌলি গ্রামের বাসিন্দা ও আবুল খায়েরের স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১১ই জানুয়ারি) সারাদিন মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন নুরজাহানের মেয়ে কাজল। এতে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। তখন প্রতিবেশীরা জানান, নুরজাহানের বসতঘরে বাইরে থেকে তালা লাগানো রয়েছে।
রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে কাজল ধামরাই থেকে বাড়িতে এসে তালা খুলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে পড়ে থাকা মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। নুরজাহানের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে মানিকগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এ সময় ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও জামাকাপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করে।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন,“মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ঘটনাটি আত্মহত্যা, না কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড-তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ঘর, মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও ঘরের ভেতরের এলোমেলো অবস্থা-সব মিলিয়ে মৃত্যু রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে বলে আশাবাদী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।