
ধামরাই (ঢাকা)প্রতিনিধি
ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ঝগড়া থামাতে গিয়ে মামলার আসামি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. কালাম নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের মাটি ব্যবসায়ী মো. মানিক মিয়া এই মামলা দায়ের করেছেন। কালামের পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করছেন যে মামলাটি মিথ্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে ভাড়ারিয়া বাজারে মাটি ব্যবসায়ী মানিক ও সুমনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। মানুষের চিৎকার শুনে পাশের বাড়ি থেকে ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. কালাম ও তার বাবা এস আহমদ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আহত মানিককে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় তুলে দিয়ে নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মানিকের সাথে কালামের পূর্ব থেকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরদিন মানিক ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ঘটনার প্রকৃত হোতাদের পাশ কাটিয়ে ঝগড়া থামাতে আসা কালামকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।
কালামের বাবা এস আহমদ বলেন, “বাজারের ঝগড়ার শব্দ শুনে আমি আর আমার ছেলে দ্রুত সেখানে যাই। আমরা গিয়ে দেখি মানিক আর সুমনের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। আমরাই তাদের থামিয়ে মানিককে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দিলাম। এখন শুনছি আমার ছেলের নামেই মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
ভাড়ারিয়া বাজারের নৈশ প্রহরী রবিউল বলেন, মানিক আর সুমন দুজনেই মাটির ব্যবসা করে। দুজনের বাক বিতন্ডায় আমি আর ঢালি ভাই ছুটে আসি। আইসা শুনি সুমন মানিককে বলতেছে এই রাস্তায় ট্রাক ঢুকাইছোস কেন? রাস্তা নষ্ট হইবো। মানিক বলে রাস্তা দিয়া মাটি যাইবোই। এক পর্যায়ে “মারামারি হইছে মানিক আর সুমনের মধ্যে, কালাম ভাই তো মামলার আসামি হওয়ার কথা না।” কালাম ভাই পরে আইছে ঝগড়ার কথা শুইনা।
ভাড়ারিয়া বাজারের আরেক নৈশ প্রহরী দুলু দিয়ে বলেন, আইসা দেখি এক পক্ষ চইলা গেছে। মানিক এক পাশে বইস্যা রইছে। আমি, কালাম আরোও দুইতিনজন মিলে মানিককে সিএনজিতে উঠাইয়া দিয়া বিদায় করি। কালাম তো মারামারি করে নাই, উনি তো থামাইতে আসছিলেন।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবোধ চন্দ্র বর্মন জানান, মানিক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই মিথ্যা মামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে কালামের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।




