
রাত পোহালেই মজলুম জননেতা আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সন্তোষে তার পরিবার, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ভক্ত-মুরিদান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। সকাল থেকে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ থাকবে বিভিন্ন আয়োজন।
অধিকারবঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের নেতা হিসেবে মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জাতীয় সংকটে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলেছেন তিনি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির স্বার্থকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন সবসময়। জীবন ছিল সাদাসিধে, অনাড়ম্বর—যেখানে ফুটে উঠেছে দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
শোষণমুক্ত, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্ম মওলানা ভাসানীর। তবে জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। কৈশোর-যৌবন থেকেই জড়িত ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে। তিনি ছিলেন তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনের অন্যতম প্রধান নেতা তিনি। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন এই জননেতা।
এরই মধ্যে ভাসানীর ভক্ত-অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সন্তোষে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলছে সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’।